সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

লোহার খুঁটি দিয়ে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা রেল বিভাগের

ডেস্ক রিপোর্ট / ৭৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সিলেট-আখাউড়া রেলপথের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বালিগাঁও এলাকায় ৫৩ বছর ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষজনের চলাচলকৃত সড়কটি দুই পাশে লোহার স্লিপার দিয়ে হঠাৎ করে বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগ। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার গ্রামবাসী।

এ সড়কটি ব্যবহার করেই মানুষজন উপজেলা সদরে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। সড়কটি বন্ধ করায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

সড়কটি খুলে দেয়ার দাবিতে শতাধিক গ্রামবাসী শুক্রবার দুপুর ২টায় ভানুগাছ রেল স্টেশন সংলগ্ন বালিগাঁও এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। বালিগাঁও-বাঘমারা-রাজটিলা গ্রামবাসীর ব্যানারে বালিগাঁহ শাহী ইদগাহ সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামবাসী জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাঘমারা, রাজটিলা,বালিগাঁওসহ পাঁচটি গ্রামের মানুষ সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ক্রসিং এর সড়কটি ব্যবহার করে আসছেন। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ প্রধান সড়কে রাস্তাটির সংযোগ রয়েছে। উপজেলা সদরে সহজেই আসা-যাওয়া করা যায় সড়কটি দিয়ে। রেলওয়ে বিভাগের কাছে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এখানে গেইটম্যান দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

রেল ক্রসিং এর পাশেই এখানে গরমশাহ মাজার ও একটি মসজিদ রয়েছে। সরকারি রাস্তটি পাকাকরণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি শত শত মানুষ সিএনজি, মোটরসাইকেল, টমটম দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিন দিন আগে গ্রামবাসী সকালে দেখতে পান রেলপথের দুই পাশে পাঁচটি করে ১০টি লোহার স্লিপারের খুঁটি স্থাপন করে সড়কটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সড়কটি বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী।

রেলপথের পূর্ব পাশে গ্রামের কবরস্থান রয়েছে। লাশ বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে গ্রামের লোকজন বিকল্প পথে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিএনজি বা টমটমে ভানুগাছসহ উপজেলা সদরে যাতায়াত করছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, উচ্চ মহলে যোগাযোগ করতে। গত তিন দিন ধরে সড়কটি বন্ধ রয়েছে। স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে আসা-যাওয়া করছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এ সড়কটি বহু বছর ধরে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। সরকারও রাস্তাটি পাকাকরণ করেছে। আর এখানে রেল ক্রসিং হলেও কোনো দুঘর্টনা ঘটেনি। আমরা বহুবার রেল বিভাগকে বলেছি এখানে গেইটম্যান দেয়ার জন্য। হঠাৎ করে কোন উদ্দেশ্যে এ রাস্তাটি বন্ধ করা হলো। অবিলম্বে রাস্তাটি খুলে দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কতৃর্পক্ষের কাছে আহ্বান জানাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ভানুগাছ পৌর বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি কাজী মামুনুর রশীদ, কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু, বাঘমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস শহীদ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, সমাজসেবক নোমান আহমদ প্রমুখ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের প্রকোশলী (কার্য) কুলাউড়ার মো. জাকির হোসেন খান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক টেন্ডারের মাধ্যমে যাত্রীদের স্বার্থে মাইজগাও হতে আখাউড়া পর্যন্ত অবৈধ রেল ক্রসিং বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, স্থানীয়রা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি রেল বিভাগের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর