বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব মো.জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে।’
একইসঙ্গে ছাত্র আন্দোলনে আহত চিকিৎসধীন ছাত্র জনতার চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আলাদা স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড কেয়ার ইউনিট তৈরি করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতার চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা বিল গ্রহণ না করা অনুরোধ জানানো হয়। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। উক্ত কমিটির সদস্যগণ তাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে আজ রোববার বৈঠকে মিলিত হবেন।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৈঠকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান,সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুললাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ পরিচালক ডা. তানভীর আহমেদ চৌধুরী ও ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম এবং ঢামেকের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম প্রমুখ।
সভায় আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, আহত ছাত্র-জনতা যেহেতু বিভিন্ন ধরনের ইনজুরিতে ভুগছেন এবং তাদের অনেকেরই অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাই তাদের অস্ত্রোপচার পরবর্তী সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। তাই স্পেশালাইজড বিভাগে চিকিৎসক নার্স এবং রোগীর বৈধ প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এসব ইউনিটে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন। স্পেশালাইজড ইউনিটগুলোতে রোগীর স্বজন বা বৈধ প্রতিনিধি পরিচালকের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকবেন। এটি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অতি জরুরি।