খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব Easter Sunday উপলক্ষে শ্রীমঙ্গল-এ দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোরের সূর্যোদয় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডলী থেকে আগত পাঁচ শতাধিক খ্রিষ্টভক্তের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে।
রোববার ভোরে শ্রীমঙ্গল শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে আন্তঃমণ্ডলিক সূর্যোদয় প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় ইস্টার সানডের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল সাড়ে ৫টায় শ্রীমঙ্গল খ্রিস্টীয় আন্তঃমণ্ডলীর আয়োজনে সার্বজনীন প্রাতঃকালীন বিশেষ উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়।

নির্মল ও শান্ত পরিবেশে আয়োজিত এ উপাসনায় বিভিন্ন মণ্ডলীর খ্রিষ্টভক্তরা সমবেত হয়ে যিশু খ্রিষ্ট-এর পুনরুত্থান স্মরণ করেন। প্রার্থনায় অংশ নিতে ভোর থেকেই ধর্মপল্লী প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে।
খ্রিষ্ট ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিষ্ট ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তৃতীয় দিনে পুনরুত্থিত হন। এই ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্টার সানডে উদযাপন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ-এও দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গির্জা বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয় এবং দিনজুড়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থনায় দেশ-জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল শ্রমিক সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর আয়োজনে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রার্থনা পরিচালনা করেন সিলেট কাথলিক ধর্মপ্রদেশের বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ। তাঁর নেতৃত্বে ভক্তরা বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির কল্যাণ কামনায় প্রার্থনায় অংশ নেন।
প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার শ্যামল গোমেজসহ স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে খ্রিস্টীয় সঙ্গীত ও ধর্মীয় বাণীর মাধ্যমে পুনরুত্থিত যিশুর মহিমা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আলিয়াছড়া পুঞ্জি থেকে আগত বিপাশা খংলা বলেন, ‘যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থানের এই দিনে আমরা প্রার্থনা করেছি—বাংলাদেশ ভালো থাকুক, দেশের মানুষ সুস্থ থাকুক। ইস্টার সানডে উপলক্ষে সমবেত প্রার্থনায় অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
প্রার্থনা সভায় বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ বলেন, ‘ইস্টার সানডে সত্য ও ন্যায়ের জয়ের প্রতীক।’ তিনি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। প্রার্থনা শেষে ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
