মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় গরু নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জামনা খাতুন নামে ঐ নারী কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা জামনা খাতুন (৪৯) গত ১০ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনার শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন, তার গর্ভবতী গাভি রাস্তার পাশের জমিতে ঘাস খাওয়ার সময় প্রতিবেশী দুলাল মিয়ার ধানক্ষেতে প্রবেশ করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুলাল মিয়া, তার স্ত্রী লতিফা বেগম, অনুদা বেগম সহ আরও ২-৩ জন মিলে জামনা খাতুনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে মারধর করেন। এক পর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামনা খাতুনের ছেলে খালেদ মিয়া মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল মিয়া ব্যাটারিচালিত টমটমের চাবি দিয়ে খালেদের মাথা ও মুখে আঘাত করেন, এতে তার কপালে গুরুতর জখম হয় এবং কপালে ২টা সেলাই দিতে হয়।
তখন তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ অভিযোগের ঘটনায় খালেদ মিয়া, জলিল মিয়া, অলবাম মিয়া ও কমেনা বেগমসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাক্ষী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুলাল মিয়া খুব খারাপ। টমটম চালালে কি হয়েছে। তার জ্বালায় অতিষ্টি এলাকাবাসী। যেকোনো বিষয় নিয়ে মানুষের উপড় অত্যাচার করে। তারা দাবী করে জানান, প্রশাসন যেন জামনা খাতুন এর উপড় হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা অসহযোগিতা করেন। এছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়া কেউ তার ভয়ে কথাও বলছেন না। তিনি আরও বলেন, থানায় অভিযোগ দিলাম পুলিশও এখনো কিছু করেনি। শুধু এসে দেখে গেছেন।
তবে এই বিষয়ে অভিযুক্তের মোটোফোনে একাধিবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।