মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শিশু উদ্যানের সংস্কার, পাবলিক লাইব্রেরির পুনঃস্থাপন এবং সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সায়্যিদ মুজিবুর রহমান। শ্রীমঙ্গল বিজয়ী থিয়েটারের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের আহ্বানে সভায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় শিশু উদ্যান সংস্কার, পাবলিক লাইব্রেরি পুনঃস্থাপন এবং শিশু পার্ক নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে “শিশু উদ্যান ও পাবলিক লাইব্রেরি বাস্তবায়ন কমিটি” নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিজয়ী থিয়েটারের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক এবং নিলয় রশিদ তন্ময়কে সদস্য সচিব করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জাগরণ এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্যে “স্বাধীনতা দিবস উদযাপন পর্ষদ” নামে আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে উদীচী শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় বিষুকে আহ্বায়ক, উচ্ছ্বাস থিয়েটারের সভাপতি গোবিন্দ রায় সুমনকে সদস্য সচিব এবং ফুয়াদ ইসলামকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, উদীচী শ্রীমঙ্গল শাখার সভাপতি নীলকান্ত দেব, সাংবাদিক মো. কাওছার ইকবাল, নিতেশ সুত্রধর (উচ্ছ্বাস থিয়েটার), প্রনবেশ চৌধুরী অন্তু (উদীচী), করুনাময় দাশ (আদর্শ সংগীত বিদ্যালয়), পলাশ চৌধুরী (সংস্কৃতি কর্মী), অনিক ভট্টাচার্য (প্রান্তিক থিয়েটার), সাজু দেব (নৃত্যাঙ্গন), সুমন দাশ (মুদ্রা), মো. আশিকুর রহমান (বিজয়ী থিয়েটার), সুচিত্রা রানী দেব (সুরাঙ্গন সংগীত বিদ্যালয়), রুপম আচার্য্য (সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী), সুজিত রায় (সংস্কৃতি কর্মী), রাখাল বণিক, মো. তামিম আহমেদ (শ্রীমঙ্গল থিয়েটার), মঈনুদ্দিন আহমেদ (নাগরিক উদ্যোগ শ্রীমঙ্গল), মো. মকবুল হোসেন (ভলেন্টিয়ার গ্রুপ শ্রীমঙ্গল), মো. আলম মিয়া (ভলেন্টিয়ার বাংলাদেশ), মো. তবারক আলী ও শাহেদ আহমদ রানা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিশু উদ্যান ও পাবলিক লাইব্রেরির দ্রুত সংস্কার ও পুনঃস্থাপন জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে নতুন করে জাগ্রত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।