রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধান নির্বাচন কমিশনার পড়াবেন সংসদ সদস্যদের শপথ চা-শ্রমিকদের প্রত্যাশা: মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান মৌলভীবাজার-৪ এনসিপিসহ তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত পর্যটন নগরীকে সাজাতে নির্বাচনী পোস্টার অপসারণে মাঠে এমপি হাজী মুজিব লন্ডনে ১১ বছর বয়সেই সিভিক সম্মাননা: ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোরী জয়নাব চৌধুরীর অনন্য কৃতিত্ব মৌলভীবাজার-২: সাবেক এমপি নওয়াব আলী খানসহ ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত সড়কের পাশ থেকে ৯টি গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা, উদ্ধার করলো বন বিভাগ মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী মৌলভীবাজারে চার আসনে বিএনপির জয়, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন মৌলভীবাজার-৪ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল হাজী মুজিব পরিবারের উত্তরসূরিরা

চা-শ্রমিকদের প্রত্যাশা: মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপিকে শ্রম মন্ত্রণালয়ে দেখতে চান

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্যকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দেশের বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধি, সংগঠক ও সাধারণ শ্রমিকরা এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে বড় ও ফাঁড়ি মিলিয়ে প্রায় ২৪১টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মরত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারসহ প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। দেশের চা-শিল্পে তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদান থাকলেও মজুরি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক দাবিগুলো এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ চা উৎপাদন এলাকা। এ অঞ্চলের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে চা-শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরেই ন্যায্য মজুরি, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তাঁরা।

শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য যদি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তবে চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকায় নীতিনির্ধারণে শ্রমিকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে বলে তাঁদের বিশ্বাস।

এক শ্রমিক নেতা বলেন, “চা-বাগানের বাস্তব পরিস্থিতি বাইরে থেকে বোঝা যায় না। আমাদের এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি সরাসরি এই বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত। তাই তাঁকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চাই।”

চা-শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর পুনর্বিবেচনা, আবাসন সংকট সমাধান, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে হলে শ্রমিক-অধ্যুষিত এলাকার একজন প্রতিনিধিকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

সাধারণ শ্রমিকদের ভাষ্য, “আমাদের কষ্ট-দুঃখ, অধিকার ও বঞ্চনার ইতিহাস সবচেয়ে ভালো জানেন আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি। তাই তাঁকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চাই।”

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও মত, চা-শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তা হবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী সিদ্ধান্ত। এতে সারাদেশের শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।

স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকলে শ্রমসংক্রান্ত আইন, মজুরি কাঠামো ও কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও ফলপ্রসূ হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। দেশের বৃহত্তর চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর