শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
লন্ডনে ১১ বছর বয়সেই সিভিক সম্মাননা: ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোরী জয়নাব চৌধুরীর অনন্য কৃতিত্ব মৌলভীবাজার-২: সাবেক এমপি নওয়াব আলী খানসহ ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত সড়কের পাশ থেকে ৯টি গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা, উদ্ধার করলো বন বিভাগ মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির মুজিবুর রহমান চৌধুরী মৌলভীবাজারে চার আসনে বিএনপির জয়, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন মৌলভীবাজার-৪ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল হাজী মুজিব পরিবারের উত্তরসূরিরা ঝুঁকিপূর্ণ ২২৩ কেন্দ্রে বডি-অন ক্যামেরা, মৌলভীবাজারে ভোটের মাঠে থাকবেন ১,৬৪১ পুলিশ মৌলভীবাজারে চা বাগানে যুবকের হাত-পা বাঁ/ধা রক্তা/ক্ত মর/দেহ উ/দ্ধার রাত পোহালেই ভোট: মৌলভীবাজারে ৫৫৪ কেন্দ্রে প্রস্তুতি, ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত ভোটের মাঠে সাংবাদিকরা কী করবেন, কী করতে পারবেন না

লন্ডনে ১১ বছর বয়সেই সিভিক সম্মাননা: ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোরী জয়নাব চৌধুরীর অনন্য কৃতিত্ব

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পূর্ব লন্ডনের London Borough of Tower Hamlets-এর ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জয়নাব চৌধুরী অর্জন করেছেন একটি মর্যাদাপূর্ণ সিভিক অ্যাওয়ার্ড। যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে “ইয়াং অ্যাম্বাসাডর” ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

টাউন হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম লন্ডনের সিভিক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়—যা কেবলমাত্র বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে তিনি সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সিভিক অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

অনুষ্ঠানে স্পিকার, মেয়র, ডেপুটি মেয়র, কেবিনেট সদস্য, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

লেখালেখিতে অনন্য দৃষ্টান্ত:

মাত্র ১১ বছর বয়সেই জয়নাব রচনা ও প্রকাশ করেছেন তাঁর প্রথম গ্রন্থ My Journey Through Cayley Primary। বইটিতে তিনি বিদ্যালয়জীবনের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, অধ্যবসায়, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণার গুরুত্ব অত্যন্ত ইতিবাচক ও পরিপক্বভাবে তুলে ধরেছেন।

বর্তমানে বইটি লন্ডনের বিভিন্ন স্কুল ও লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। অল্প বয়সেই তাঁর লেখনীতে যে আত্মবিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে, তা তাঁকে সমসাময়িকদের কাছে অনুকরণীয় করে তুলেছে।

সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা

শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি জয়নাব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয়। দাতব্য সংস্থার জন্য তহবিল সংগ্রহ, খাদ্য বিতরণ এবং কমিউনিটি সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তিনি নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। তাঁর এই বহুমাত্রিক সম্পৃক্ততাই তাঁকে বিশেষ স্বীকৃতির জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।

সিভিক অ্যাওয়ার্ড প্রদানকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেন, “জয়নাব চৌধুরী প্রমাণ করেছেন—বয়স কখনোই সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখার পথে বাধা নয়। তাঁর যাত্রা মূল্যবোধ, শিক্ষা ও সেবামূলক মানসিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

পরিবার থেকে প্রেরণা:

জয়নাব চৌধুরী হচ্ছেন সলিম বাজারের তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লন্ডনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হাসান চৌধুরী (শিপন)-এর কন্যা। তাঁর দাদি রুনা বেগম (বি.এ., বি.এড.) একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। পরিবার থেকেই তিনি শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শক্ত ভিত পেয়েছেন বলে জানা যায়।

কমিউনিটির গর্ব:

যুক্তরাজ্যের সিভিক ব্যবস্থা ক্রাউন রাজতন্ত্রের অধীন সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ। সেই কাঠামোর অধীনে স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে বিরল সম্মান।

১১ বছর বয়সে জয়নাব চৌধুরীর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের। শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও সমাজসেবার সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের এক উজ্জ্বল রোল মডেল।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর