ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাছ খানসহ পাঁচ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী কোনো প্রার্থীকে তার জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ (১২.৫%) ভোট পেতে হয়। তবে এই আসনে পরাজিত পাঁচ প্রার্থী সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এম সায়েদ আলী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে ২৫ হাজার ৮৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে, জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ‘ফুটবল’ প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৫৪ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলা (ঘোড়া) ২ হাজার ১৪১ ভোট, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর একমাত্র নারী প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি) ৫৯১ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা) ৫২০ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল) ৪৮৪ ভোট পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ১০৩টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৬.০৪ শতাংশ। ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮টি ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হলেও ৪ হাজার ৬০১টি ভোট বাতিল করা হয়।
এছাড়া একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৮৩ হাজার ৯৩০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৭ হাজার ৯৩৫টি।