
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি মাসে ওই কার্যালয়ের একটি সরকারি গাড়ির জন্য ৮০০ কিলোমিটার চলাচলের হিসাব দেখিয়ে ১৬০ লিটার তেলের বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে গাড়িটি এতটা চলাচল করেনি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গাড়িটি মাসে ১৬০ লিটার তেল বরাদ্দ পায়। কিন্তু গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গাড়ির চলাচলের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
কার্যালয়ের গাড়ির লগবই অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে গাড়িটি চলেছে ৮৭ কিলোমিটার, নভেম্বর ৬৭ কিলোমিটার, ডিসেম্বর ৪৯১ কিলোমিটার, জানুয়ারিতে ১৫২ কিলোমিটার, ফেব্রুয়ারিতে ১২১ কিলোমিটার, মার্চে ২৯০ কিলোমিটার, এপ্রিলে ২৪৪ কিলোমিটার, মে মাসে ১৩০ কিলোমিটার ও জুনে ২৪১ কিলোমিটার।
অর্থাৎ ৯ মাসে গাড়িটি চলেছে মোট ১ হাজার ৮২৩ কিলোমিটার। অথচ বিল তোলা হয়েছে প্রতিমাসে ৮০০ কিলোমিটার করে ৯ মাসে ৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার চলাচল দেখিয়ে। অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত দুই দফায় জ্বালানি তেলের বিল তোলা হয়েছে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা।
এ বিষয়ে গাড়িটির চালক বাবুল মিয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি শুধু গাড়ি চালাই। কর্মকর্তার নির্দেশে যেখানে যেতে বলেন সেখানেই যাই। পরে গাড়ির মিটার দেখে লগবইয়ে কত কিলোমিটার চলেছে সেটা লিখে রাখি। তেলের বিল অফিস থেকে তোলা হয়, তাতে আমার কোনো ভূমিকা নেই।’
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া গাড়ির তেলের টাকা তোলা যায় না। তিনি নিজেই বরাদ্দ বাড়িয়ে বিল উত্তোলন করতেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, অফিসে এসে দেখা করেন। এখন ব্যস্ত আছি। মোবাইলে দিয়ে অন্য একটি কাজ হচ্ছে।ফোনে কথা বলা যাবে না।পরে অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায় নি।
এর আগে তিনি অন্য একটি গণমাধ্যম কর্মীকে বলেছিলেন ‘অনেক সময় আমাকে গাড়ি ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়েছে। সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেই বেশির ভাগ সময় ফিল্ডে কাজ করেছি। তাই গাড়ি কম চলেছে।’ গাড়ি না চললেও পুরো টাকা কেন তোলা হয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে গাড়ির জ্বালানির জন্য যে খরচ নিয়েছি, সেটার কিছু অংশ গাড়ির অন্যান্য ব্যয় যেমন মবিল পরিবর্তন, মেরামত ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি ছাড়া অন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় সেই খাত থেকেই মেটাতে হয়েছে।’
গাড়ি যতটুকু চলবে, বিল ততটুকুই তোলা যাবে জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, বেশি বিল তোলার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে এ ধরনের দুর্নীতি হতো অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, এ সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।