
পবিত্র ওমরাহ হজ পালন শেষে দেশে ফিরেই স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব ও কারা নির্যাতিত নেতা আব্দুল আহাদ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে এবার নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কমলগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই বিএনপি নেতা।
গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান আব্দুল আহাদ। সেখানে পবিত্র ওমরাহ হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৪ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরেই দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আব্দুল আহাদ। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। দলের জন্য ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে নিজের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চান।
শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, স্থানীয়ভাবেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন আব্দুল আহাদ। আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কারণে এলাকায় তাঁর একটি জনসম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের।

আব্দুল আহাদ বলেন, “আমি দলের জন্য অনেক কিছু করেছি। দলের জন্য জেলও খেটেছি। হঠাৎ করে রাজনীতিতে এসে দলে যোগ দিইনি; দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে আছি। দলের প্রতি আমার বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। আগামী নির্বাচনে দল আমাকে ৬ নম্বর আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করবে—এমন প্রত্যাশা করি। দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চাই।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আলীনগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে আছি। বিভিন্ন সময় তাদের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকতে চাই। নির্বাচিত হলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, এলাকার উন্নয়ন এবং নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেব।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলীনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ বলছে, নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দুর্দিনে পাশে থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আলীনগর ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাঁরা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকবেন। এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিকসেবা এবং দরিদ্র মানুষের সহায়তায় যাঁর কার্যকর ভূমিকা থাকবে, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আব্দুল আহাদ সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “আব্দুল আহাদ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং রাজনৈতিক কারণে জেলও খেটেছেন। এসব কারণে এলাকায় তাঁর একটি পরিচিতি রয়েছে।”
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ড নির্বাচনে প্রার্থীর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু চেয়ারম্যান পদে জয় পেতে হলে দলীয় সাংগঠনিক শক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন, সাধারণ ভোটারদের আস্থা এবং নির্বাচনী কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এখানে বড় ভূমিকা রাখে। দলীয় মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে না পারলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাওয়া কঠিন। আবার দলীয় পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও কোনো কোনো প্রার্থীকে এগিয়ে দিতে পারে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
আব্দুল আহাদের অনুসারীদের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তাঁর ত্যাগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের পাশে থাকার কর্মকাণ্ড তাঁকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে। তাঁদের প্রত্যাশা, দলীয় মনোনয়ন পেলে আলীনগর ইউনিয়নে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান পদে আব্দুল আহাদের প্রার্থিতা বা দলীয় মনোনয়ন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতি আপাতত মনোনয়ন প্রত্যাশার মধ্যেই রয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আলোচনার বিষয়—দলীয় মনোনয়ন পেতে আব্দুল আহাদ কতটা সফল হন এবং মনোনয়ন পেলে স্থানীয় ভোটারদের কতটা সমর্থন আদায় করতে পারেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, কারাবরণের অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ—এসবকে পুঁজি করে তিনি নির্বাচনী মাঠে কতটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আলীনগর ইউনিয়নের ভোটারদের প্রত্যাশা, আগামী নির্বাচনে যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর সততা, যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা, এলাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাই যেন প্রাধান্য পায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।