
বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। দেশের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ এই জনপদ শুধু সবুজ চা-বাগান, দশরঙা চা কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও আলোচনায় আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো ‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড’, যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট সমাজকে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনের ইতিবাচক প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তরুণদের সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পলাশ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক নির্মল এস পলাশ ও সালাহউদ্দিন শুভ,’র যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট চিকিৎসক নাজিম আল কোরাশী রাফাত।

এ সময় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান চৌধুরী তুহিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মোছাব্বির আলী মুন্না, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ আবুজাফর সালাউদ্দিনসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা হিসেবে পরিবেশবান্ধব গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। শুধু বিজয়ীরাই নন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ও অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭০ জন কনটেন্ট নির্মাতাকেও সম্মাননা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
ন্যাচারাল অ্যান্ড লাইফস্টাইল বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন ইউসুফ শাহরিয়ার, মো. আল আমিন ইসলাম, ফাহিম আহমেদ, রোকসানা আফরিন শিমু, তানভীর আহমেদ, শিশির ধর, রাদিয়ান হোসেন ও মো. শহিদ।
এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কমেডি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন দীপ চক্রবর্তী। ফুড অ্যান্ড রেসিপি বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন কাজী ফয়সাল আহমেদ রিয়াদ। আদার্স (অন্যান্য) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মো. ফারহান তানভীর ফাহিম।
আয়োজকরা জানান, গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রকাশ করা হয়। মনোনীতদের নিয়ে ২ মে বিকেল ৫টা থেকে ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দর্শকদের ভোটের ভিত্তিতেই চূড়ান্তভাবে ১১ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ও ‘চায়ের জনপদ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. তোফায়েল আহমেদ (পাপ্পু) বলেন, ‘চায়ের জনপদ’ স্থানীয় একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের ইতিবাচক সংবাদ, ঐতিহ্য, পর্যটন, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহিত করতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ভালো ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাই শুধু পুরস্কার প্রদান নয়, একটি সুস্থ ও ইতিবাচক কনটেন্ট সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রথম আয়োজনেই যে সাড়া ও ভালোবাসা পেয়েছি, তাতে আগামীতে আরও বড় পরিসরে নিয়মিতভাবে এই আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে স্থানীয় ইতিহাস, পর্যটন, সংস্কৃতি, খাদ্য, পরিবেশ ও জীবনধারাভিত্তিক কনটেন্টের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এসব কনটেন্ট শুধু স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনকে সমৃদ্ধ করে না, বরং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘চায়ের জনপদ কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ড’ শুধু একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নয়; বরং দায়িত্বশীল, সৃজনশীল ও ইতিবাচক ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।