
মৌলভীবাজারের রাজনগর এলাকার একজন স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের দ্বারা তিনি ও তার পরিবার ধারাবাহিকভাবে হয়রানি, হামলা ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন। ঘটনাগুলোর শুরু ২০১৬ সাল থেকে এবং ২০২৩ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী মোঃ জহিরুল ইসলাম রয়েল-এর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালে নিজের এলাকায় একটি ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করেন এবং ব্যবসা ভালোভাবে চলছিল। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা সহায়তা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
২০১৬ সালের ১৩ জুন একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির চেষ্টা করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে অভিযোগ। এর পরদিনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ তার দোকানে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি প্রত্যাখ্যান করার পর তাকে ও তার ভাইকে মারধর করা হয় এবং দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাদের। পরবর্তীতে একই বছরের আগস্ট মাসেও দোকানে আবারও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন, যার ফলে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর তিনি থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ প্রথমে অনাগ্রহ দেখায় এবং পরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে তিনি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলে যান। এই সময় তার পরিবার দেশে ব্যবসা পরিচালনা করলেও অভিযোগ অনুযায়ী স্থানীয় একটি পক্ষ বারবার দোকানে হামলা ও হুমকি অব্যাহত রাখে এবং তার ভাই ও বাবাকে একাধিকবার শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়।
২০২১ সালের জুলাই থেকে আবারও চাঁদা দাবি ও হুমকি শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বছরের আগস্টে তার বাবা একা দোকানে থাকাকালে হামলার শিকার হন এবং পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার দাবি করে, এই ঘটনার পেছনে ধারাবাহিক হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ভূমিকা ছিল।
২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আবারও নিয়মিত মাসিক অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। দাবি প্রত্যাখ্যান করলে দোকানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়, যার ফলে পরিবারটি ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানা যায় যে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে তারা তথ্য পান। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ভাইয়ের জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পূর্ববর্তী বিরোধের কারণে এটি ঘটে।
২০২৩ সালের ৩০ মার্চ তার ভাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর পরিবারটি আইনি সহায়তার চেষ্টা করলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করা হয়। একই সময়ে তাদের পরিবার আরও চাপ ও নজরদারির মধ্যে পড়ে।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনা ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের হয়রানি ও হুমকির মুখে ছিলেন।
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।