
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিরোধপূর্ণ কৃষিজমিতে অনধিকার প্রবেশ, জমি দখলের চেষ্টা, গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিৎলিয়া গ্রামের মৃত মো. আশ্রব মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে একটি কৃষিজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধপূর্ণ জমিটি তিলকপুর চক মৌজার জেএল নং-৮৬, খতিয়ান নং-১১৫৭ এবং আরএস দাগ নং-১৫৩১-এর অন্তর্ভুক্ত। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালত ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ জুন দুপুর প্রায় ১টার দিকে জসিম উদ্দিন স্থানীয় বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার চাচার মালিকানাধীন বিরোধপূর্ণ কৃষিজমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে দখলচেষ্টা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে অভিযুক্তরা তাকে ধাক্কা দিয়ে জমি থেকে বের করে দেন। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে আলোচনা করে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ থাকা রশিদ মিয়া ও জুয়েল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিঠু রায় জানান, চিৎলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির বদর মিয়ার দুই ছেলে রশিদ মিয়া ও জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ এবং জমির আইল কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৩০ জুন পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ না করার নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে আইনজীবীদের মতে, কোনো জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালত নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) জারি করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওই জমিতে দখল পরিবর্তন, স্থাপনা নির্মাণ বা বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকে। আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক দখল বা দখলের চেষ্টা করলে তা আদালত অবমাননার বিষয় হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের আওতায়ও আসতে পারে। এ ধরনের বিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।