
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর এয়ারপোর্ট থেকে তারাপাশা পর্যন্ত সড়কের চলমান সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে কাদা ও জমে থাকা পানির ওপরেই কার্পেটিং কাজ করা হচ্ছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সংস্কার কাজ শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।

২ নম্বর পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. অলি আহমদের খান, সাংবাদিক আব্দুল হাই ইদ্রিসী, এলাকার প্রবীণ মুরুব্বী মো. মাহমুদ আলী ও শিক্ষক মো. আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, সড়কে কার্পেটিংয়ের আগে যথাযথভাবে প্রাইম কোট ও সিল কোট প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এমনকি অনেক স্থানে কাদা ও জমে থাকা পানির ওপর সরাসরি কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে, যা সড়ক নির্মাণের স্বীকৃত প্রকৌশল নীতিমালার পরিপন্থী।
তাদের মতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের সড়ক। বহুদিন পর সংস্কার কাজ শুরু হলেও শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের করের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প অনুযায়ী সড়কে দেড় ইঞ্চি পুরুত্বের কার্পেটিং করার কথা থাকলেও রোলিংয়ের আগেই বিভিন্ন স্থানে মাপ নিয়ে মাত্র ৩ সেন্টিমিটার পুরুত্ব পাওয়া গেছে। ফলে রোলিং শেষে পুরুত্ব আরও কমে যেতে পারে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, কাজের মান নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে।

তাদের দাবি, চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানানোর পরদিন অভিযুক্ত স্থানে সিমেন্ট ছিটিয়ে সাদা করে দেওয়া হয়, যাতে পূর্বের অবস্থার চিহ্ন আড়াল করা যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে জনমনে আরও প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাইফুল ইসলাম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ সিডিউল মোতাবেক কাজ করছি। কার্পেটিং ২৫ মিলি ও ৪০ মিলি নির্ধারিত রয়েছে। যেখানে যা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কাজ শেষে সিলেট থেকে উপ-প্রকৌশলী পরিদর্শন করবেন। কাজের মান ভালো না হলে আমরা কোনো বিল পাব না।’
কমলগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাঈফুল আজম জানান, ‘সড়কটির কমলগঞ্জ অংশের দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার ৭২০ মিটার। এ প্রকল্পে ২ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ৪০ মিলি কার্পেটিংয়ের কাজ সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে। সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য আমাদের অফিসের কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সড়কের সংস্কার কাজে কোনো অনিয়ম চলবে না। আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।