
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে আদিবাসী এক দম্পতির ১,২০০-এর বেশি পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) কুলাউড়া শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি।
কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (মৌলভীবাজার জেলা শাখা) এবং বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পানগাছ খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এসব গাছ কেটে ফেলা মানে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করে দেওয়া।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, জাসদ কুলাউড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক ময়নুল ইসলাম শামীম, কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহসভাপতি নারায়ণ কুর্মী, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, কুলাউড়া উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব করিম মিন্টু এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রিপন বানাই।

এছাড়াও ইউপি সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং, সাদমান সৌমিক মজুমদার, নারী নেত্রী মনিকা খংলা, ঝিমাই পুঞ্জির মান্রী রানা সুরং, ববিতা দিও, হিরন্ময় সিংহসহ খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে আদিবাসী নেতারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অনন্ত ও সরিস লামারাই দম্পতিকে ক্ষতিপূরণ প্রদান; আদিবাসী পানচাষিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; প্রথাগত ভূমি অধিকার রক্ষা; পুঞ্জি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার; এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে জেলার আদিবাসী সম্প্রদায় আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ গভীর রাতে ইছাছড়া পুঞ্জিতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে আদিবাসী দম্পতি অনন্ত ও সরিস লামারাইয়ের পানের জুমে থাকা ১,২০০-এর বেশি পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : সালাহ্উদ্দিন শুভ ,মোবাইল : 01710668127 ইমেইল : protidinermoulvibazar@gmail.com
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | প্রতিদিনের মৌলভীবাজার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।