প্রেমের টানে হাজার মাইল পেরিয়ে চীন থেকে ছুটে এলেন এক তরুণী। গন্তব্য—রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রাম। নাম তার ক্রিস হুই, বাড়ি চীনের সাংহাই শহরে। আর যার টানে এই দূরযাত্রা, তিনি টিকরপাড়ার ছেলে সুকান্ত সেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গ্রামের আকাশে হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা মাত্রই কৌতূহলী মানুষ দলে দলে ছুটে আসেন। ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে করে প্রিয়তমাকে নিয়ে বাড়িতে নামেন সুকান্ত। মুহূর্তেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। বিদেশি কনেকে একনজর দেখতে ভিড় জমে যায় সেন বাড়ির সামনে।

টিকরপাড়ার প্রয়াত স্বপন কুমার সেন ও শিল্পী রানি সেনের ছেলে সুকান্ত বহু বছর ধরে চীনপ্রবাসী। ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে চীনে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মাস্টার্স সম্পন্ন করে চাকরিতে যোগ দেন। সময়ের ব্যবধানে পরিচয় হয় সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে।
পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা—অবশেষে বিশ্বাস ও ভালোবাসায় গড়ে ওঠে তাদের সম্পর্ক। ২০২৩ সালে দু’জনে মিলে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে চীনে তাদের নিজস্ব একটি কোম্পানিও রয়েছে।

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করেন তারা। এরপরই পরিকল্পনা হয় বাংলাদেশে সামাজিক আয়োজনের। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই ক্রিস এবার পা রাখলেন সিলেটের মাটিতে।
আগামী ২১, ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি সুকান্তের গ্রামের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন ঘিরে এখন সাজসাজ রব। আলোকসজ্জা, রঙিন কাপড়, ফুলের সাজে সেজেছে পুরো বাড়ি। আত্মীয়-স্বজনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
স্থানীয়রা জানান, হবু বর-কনেকে একনজর দেখতে গ্রামের অনেকে ছুটে আসছেন। বিদেশি তরুণীর সঙ্গে প্রতিবেশী ছেলের বিয়ে হবে—এ কারণে বর-কনেকে একসঙ্গে দেখতে এসেছেন তারা।
গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা সুসেন্ড মল্লিক জানান বলেন, ‘আমাদের গ্রামের ছেলের সঙ্গে বিদেশি মেয়ের বিয়ে—এটা তো গর্বের বিষয়। তাই সবাই দেখতে আসছে।’

কনে ক্রিস হুই বলেন, ‘আজ আমার জন্য বিশেষ মুহূর্ত। আমি বাংলাদেশে এসেছি আমার স্বামী সুকান্ত সেনের সঙ্গে। আমার মা-বাবাও এসেছেন। এখানে এসে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। আমাদের ভালোবাসার গল্প অন্যদিন বলব।’
বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশ, মানুষের আন্তরিকতা আর আয়োজনের উচ্ছ্বাস তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।
বর সুকান্ত সেন বলেন, ‘২০১৮ সালে চীনে যাই পড়াশোনার জন্য। পরে চাকরি ও ব্যবসা শুরু করি। ৩-৪ বছর পর ক্রিসের সঙ্গে পরিচয়। ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্ক গভীর হয়। ২০২৫ সালে আমরা বিবাহের রেজিস্ট্রেশন করি। দেশে এসে ভিন্নভাবে কিছু করতে চেয়েছিলাম। তাই হেলিকপ্টারে করে বাড়িতে এসেছি। এতে আমার স্ত্রী ও এলাকাবাসী—সবাই আনন্দিত।’